হ্যামলেটের দেশে

হ্যামলেটের দেশে

এ এক অদ্ভুত দেশ৷ যত দেখছি তত অবাক হচ্ছি৷ এদের মধ্যে ব্রীটীশদের মত নাক ঊঁচু ব্যাপারটা নেই৷
এরা ভীষন easy going ৷ আমার মনে হয় তার একটা কারণ এই যে এদের দেশ এত বেশি ঊন্নত, যে এদের সামনে কোন রকম বড় challenge নেই৷ এই জায়গাটাও ভারি সুন্দর৷ এখানে গাড়ী গুলোর left-hand-drive, মানে ভারতে গাড়ীর চালক বসে ডান দিকে৷ এখানে বসে বাঁ দিকে৷ ব্যাপারটা বেশ confusing ৷ মনে হয় রাস্তার উল্টো দিক থেকে গাড়ি আসছে৷ এখানকার বেশির ভাগ রাস্তার তিনটে ভাগ আছে :
১> গাড়ির জন্য
২> সাইকেলের জন্য
৩> হাঁটবার জন্য footpath
এখানে প্রচুর লোক সাইকেল ব্যবহার করে৷ এরা সাইকেল কে bike বলে৷ আমার ম্যানেজার বলছিল যে ও এখানকার এক মন্ত্রী কে সাইকেল চালিয়ে যেতে দেখেছে৷ আমাদের ওখানে মন্ত্রীদের convoy- এ কতগুল গাড়ি আছে তাই দিয়ে হিসাব করা হয় কে কতবড় হনু৷ মায়াবতি একের পর এক নিজের মুর্তী করিয়ে যাচ্ছে, কটি-কটি সরকারি টাকা খর্চা করে, আর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি রাখছে যে তার z category security বাড়িয়ে z+ category করা হোক৷

এদের এখানে tap- এ যে জল supply করা হয়, সবাই সেই জলই খায়৷ এখানে public transport
ভীষণ ভাল৷ যে বাস গুল চলে, সবই volvo ৷ সাধারন বাস দেখিনি৷ বাসের ভাড়া যদিও
কিঞ্চিত্ বেশি৷ traffic jam একেবারেই নেই৷ লোকেরা প্রচন্ড আইন মেনে চলে৷ এখানে
হাঁটা পথে রাস্তা পার হতে গেলেও traffic light মেনে চলতে হয়৷

এক দিন রাস্তা হারিয়ে ফেলে একজন লোককে জিগেস করছি, সে বলতে পারল না৷
খানিক দুরে আর একটা লোক, তার হাতে এত্ত বড় এক ফুলের তোরা, আমায় নিজের থেকে বলল : তুমি ইন্ডিয়া থেকে এসেছো? আমি হ্যাঁ বলাতে জিগেস করল ইন্ডিয়ার কোথায়? বললাম ব্যাঙ্গালোর, সে বলল, আমিও ব্যাঙ্গালোর গেছি : “প্রশান্টী-নিলায়াম”, আমি বুঝলাম, নিশ্চয় সত্য সাই বাবা৷ বলে, হ্যাঁ, সে আট-চল্লিশ বার ওখানে গেছে, যখন বাবা ডাকে, তখন যেতেই হয়৷ আমায় জিগ্যেস করল তুমি কি কৃষ্ণ কে মানো? তারপর সে আমাকে বিশদ ভাবে রাস্তাটা বোঝাল৷ আমি তাকে প্রচুর ধন্যবাদ-টাদ দিলাম৷ এখানে এখন ঠান্ড খুব একটা নেই, তবে বেশ জোরে হাওয়া দেয়, আর প্রায় বৃষ্টি পরে৷ তবে এখানে ইংল্যান্ডের থেকে বেশি সূর্য্য ওঠে৷ এখানে সকাল হয় ৫:০০-৫:৩০৷ আর সন্ধ্যা হয় ৮:৩০-৯:০০৷ আমার ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত লাগে৷ আমি আজকাল ৭:৩০ উঠে তারাতারী অফিস যাই৷ এখানে বিকেল ৫:৩০-র পর আর কেউ অফিসে থাকে না৷

এখানে লোকজন যে কি পরিমানে স্যালাড খায়, না দেখলে বিস্বাস করা যাবে না৷ অনেক সময় গরুর জাবরের মত মনে হয়৷ স্যালাডের মধ্যে কাঁচা বাঁধা-কপি, ব্রক্কোলী, নটে সাকের মত একটা সাক, এই সব প্রচুর পরিমানে থাকে৷ আমাদের অফিসে সবসময় দু-তিনটে ঝুড়িতে কলা, আপেল, পীচ, ন্যাশপাতী রাখা থাকে৷ আমার তো এখানকার লাঞ্চটা ভীষণ ভাল লাগে৷ দুদিন ভাতও দিয়েছিল৷ আমাদের চালের তিন গুন মোটা আর লম্বা চাল৷ একটু শক্ত থাকে, বেশি চিবাতে হয়, মোটের ওপোর খেতে খারাপ না৷ প্রচুর সুস্বাদু মাখন আর চীজ থাকে৷ চীজের আবার অনেক রকমফের আছে৷ আমি কম করে চার রকম দেখলাম৷

আশাকরছি ব্যাঙ্গালোরে সুস্থ অবস্থায় মাস-খানেকের মধ্যেই ফিরবো৷
কিছু ফোটো তুলেছি:
http://picasaweb.google.com/paawak/DenmarkVisit#
http://picasaweb.google.com/paawak/OdeToWillow#